Home » Slider » দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের তালিকায় দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের নাম জেলা থেকে সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা তৈলধারা বাজারে অবস্থিত কাঁকড়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক। ওই সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

কাঁকড়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন থাকলেও দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে গত ৪ অক্টোবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে পাঁচজনের একটি তালিকা উপজেলায় পাঠায়। গত ৫ অক্টোবর উপজেলা থেকে জেলায় ও ৬ অক্টোবর জেলা থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে প্রার্থীদের নাম পাঠানো হয়। নেতারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন, জেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানো ওই তালিকায় দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের নাম রয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সব সময় বলে আসছেন অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের কোনো ক্রমেই মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক লিখিত বক্তব্যে বলেন, দুলাল হোসেন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করে কাকড়াজান ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ আনুষ্ঠানিকভাবে দুলাল হোসেন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একই বছর কাঁকড়াজান ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ওই বছরই দুলাল হোসেন নৌকার বিরুদ্ধে    বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে পরাজিত হন। এবারও তিনি নৌকার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো তালিকায় দুলাল হোসেনের নাম না থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে রয়েছে-এমন খবর শুনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই নেতা আরও জানান, শেখ ফরিদুজ্জামান সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বটে তবে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বৈধ কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই আহ্বায়ক কমিটি বাতিল হয়ে আমাদের কমিটিই বৈধতা পায়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু সাঈদ বলেন, দুলাল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে, উপজেলা থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বাদল বলেন, আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে সুপারিশ করার তালিকার মূল্যায়ন না করে দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের নাম তালিকায় শীর্ষে রেখে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন না করে দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলে থাকা ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কষ্ট পাবে। এতে করে দলের ভীষণ ক্ষতি হবে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!